ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বর্ণের দামে টানা পতন

অনলাইন ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
স্বর্ণের দামে টানা পতন
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপতন ও ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে। এসব তথ্য থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা পেতে চাইছেন বিনিয়োগকারীরা।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ১৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৫৬ ডলার ১১ সেন্টে। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৭ ডলার ৮০ সেন্টে পৌঁছায়।

ডলারের দরপতন ও বন্ডের মুনাফা কমার প্রভাব

এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের সূচক ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেনের মতে, প্রকৃত সুদের হার কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগের চাহিদা অব্যাহত থাকায় স্বর্ণের দাম আগের পতন কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। তবে কারিগরি বিশ্লেষণে স্বর্ণবাজারের অবস্থান এখনো কিছুটা নাজুক।

মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে তাকিয়ে বিনিয়োগকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে পেট্রলের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও মূল্যচাপ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে দেশটির মূল মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।

মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি ও ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে এসব তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে।

স্টোনএক্সের বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান রোনা ও’কনেল বলেন, উৎপাদক মূল্যসূচক বছরওয়ারি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে থাকলে বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে বন্ডের মুনাফা আবারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাজারের পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কতটা?

সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা ধরে বাজারে লেনদেন হচ্ছে প্রায় ২৯ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে এ সম্ভাবনা ছিল ২২ শতাংশ।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে স্বর্ণ থেকে সরাসরি সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে সুদবাহী সম্পদের তুলনায় স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো ফেডের প্রেসিডেন্ট মেরি ডালি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে, এমন কোনো ইঙ্গিত তিনি দেননি।

অন্যদিকে, ফেডের তদারকি বিভাগের ভাইস চেয়ার মিশেল বোম্যান বলেছেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার মতো সময় রয়েছে।


কমেন্ট বক্স